শুক্রবার (১৬ জুন) ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য। অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং ১০ দফা দাবি আদায়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সরকারের মাথা ঠিক নেই, আওয়ামী লীগ এখন এলোমেলো লীগে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, এক মন্ত্রী এক কথা বলেন, অন্য মন্ত্রী আরেক কথা বলেন। এক নেতা এক কথা বলেন, আরেক নেতা আরেক কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অতীতে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি দাবি করে বিএনপির এ নেতা বলেন, নির্বাচনের নামে তারা ভোট চুরি-ডাকাতি করেছেন। এখন তারা বিদেশিদের খুশি করতে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছেন। দেশের জনগণ ও বিশ্ববাসী জানে, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাই শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের প্রশ্নই ওঠে না।
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দরকার নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য এ সরকারকে হটাতে হবে। তবে এ সরকার আপসে যাবে না। তাদের হটাতে গণঅভ্যুত্থানের দরকার।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাস করে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা বিজয়ী হব। আমাদের সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও জনগণ রয়েছে, যারা যুগপৎ আন্দোলন করছে। যতই ছলচাতুরি করুক না কেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কোনো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।
সরকারের চাপাবাজি দেশের জনগণসহ বিশ্ববাসী বুঝে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, অতীতে কোনো প্রধানমন্ত্রী জেনেভায় আইএলও সম্মেলনে যোগ দেননি। অথচ শেখ হাসিনা সেখানে যোগ দিয়েছেন। যেখানে বিশ্বের সবাই জানে, বাংলাদেশের অর্থনীতি তলানিতে, সেখানে গিয়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্মানজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
গুম, খুন, হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার করে সরকার টিকে রয়েছে দাবি করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, এদের কারণে আমেরিকা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার, সম্মানের নয়। এটা আওয়ামী লীগের জন্য বিশ্ববাসীর ধিক্কার।


